স্বাস্থ্য সম্মত ডায়েট প্লান কেমন হওয়া উচিত জেনে নিন

ডায়েট শুধু ওজন কমাতে করা হয় এটা একটা ভুল ধারনা। সুস্থসম্মত জীবনযাপন ও বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে ডায়েট অনেক কাজে দেয়। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে ডায়েট প্লান স্বাস্থ্যসম্মত কি না।

প্রতিদিন সকালে আপনি পেট ভরে (অতিরিক্ত না) রাজার হালে খাবেন, দুপুরে খাবেন প্রজার মতো আর রাতে খাবেন অভাবীদের মতো। মানে হোল, সকালের খাবারকে যদি ১ ভাগ ধরেন, সেক্ষেত্রে দুপুরের খাবার হবে সকালের খাবারের পরিমানের প্রায় আধা ভাগ আর রাতের খাবার হবে সকালের খাবারের তিনভাগের এক ভাগ। আর মধ্যদুপুর/ বিকালের খাবার কে আমরা নাস্তা বা স্ন্যাক্স বলবো, যা হবে সকালের খাবারের প্রায় ছয়ভাগের এক ভাগ

✅ সকাল:

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কমপক্ষে ২ গ্লাস কুসুম গরম পানি বা সম্ভব হলে কুসুম গরম লেবু পানি পান করে নিবেন। খালিপেটে পানি পান করার ফলে আপনার ঘুমিয়ে থাকা খাদ্যনালী তার কাজ করা শুরু করবে। এতে হজম প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর হতে থাকবে। এছাড়া লেবু পানি আপনার ঘুম ঘুম ভাব কাটিয়ে একটা তরতাজা ভাব নিয়ে আসবে। পানি খাওয়ার ৩০/৪০ মিনিট পর সকালের নাস্তা খাবেন। এই ৩০/৪০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি, সকালের প্রার্থনা, সংসারের নানা কাজ করে নিবেন।

✅ সকালের নাস্তাঃ

যারা দেশে থাকেন বা দেশীয় নাস্তা খেয়ে থাকেন তাদের জন্যঃ

দুটো পাতলা আটার রুটি।

এক বাটি রান্না সবজি বা ভাঁজি বা এক বাটি ঘন ডাল।

একটি ডিম (যেভাবে ইচ্ছা, চাইলে কুসুম নাও খেতে পারেন)
কম দুধ/ কম চিনি/ বিনা চিনি দিয়ে বানানো চা/কফি অথবা রং চা/গ্রিন টি।

যারা দেশের বাইরে থাকেন বা দেশীয় নাস্তা খান না, তাদের জন্য,

১. Cereals (দুই মুঠ), লো ফ্যাট দুধ (আকাশি বা হালকা নিল ক্যাপ), লো ফ্যাট চিনি ছাড়া দই বা Yoghurt কলা বা যে ফল আপনি পছন্দ করেন।

2. Catmeal (দুই মুঠ), লো ফ্যাট দুধ(আকাশি বা হালকা নিল ক্যাপ), লো ফ্যাট চিনি ছাড়া দই বা Yoghurt, কলা বা যে ফল আপনি পছন্দ করেন।

৩. ২ টি টোস্ট, মারজারিন, এভোকাডো পিনাট বাটার, ডিম পোঁচ

তবে উপরের সব খাবারগুলো যে একসাথে খেতে হবে তা নয়, উপরের খাবার উপাদানগুলোর মধ্যে

যেকোনো একটি ভাগ খেতে হবে।

কম দুধ/ কম চিনি/ বিনা চিনি দিয়ে বানানো চা/কফি অথবা রং চা/গ্রিন টি।

সকালের নাস্তা খেতে হয় ভালো পরিমান, যা সারাদিন আপনাকে সচল রাখবে। তবে অতিরিক্ত পেট ভরে

খাবেন না, পেটের কিছু অংশ যেন খালি থাকে।

✅ মধ্যদুপুর:

১. একটি ডিম (সিদ্ধ হলে ভালো হয়), যদি নাস্তায় ডিম না খেয়ে থাকেন, তাহলে খাবেন।

২. এক গ্লাস লো ফ্যাট দুধ (আকাশি নিল ক্যাপ)

৩. টক জাতীয় বা যেকোনো দেশি ফল ১ টা (অবশ্যই টক হতে হবে)

শশা, টমেটো, গাজর, লেটুস, আপেল বা যে যে ফল আপনি পছন্দ করেন, সেগুলো টুকরা টুকরা করে কেটে, বিট লবন, অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, গোল মরিচের গুড়া ও চাট মশলা দিয়ে মাখিয়ে খেতে পারেন, যতটুকু ইচ্ছা)

৪. কম দুধ/ কম চিনি দিয়ে বানানো চা/কফি অথবা রং চা / গ্রিন টি, কম মিষ্টি বা মিষ্টি ছাড়া বিস্কুট।

তবে উপরের সব খাবারগুলো যে একসাথে খেতে হবে তা নয়, উপরের খাবার উপাদানগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি ভাগের খাবার বেছে নিতে হবে।

✅ দুপুর :

• খাওয়া শুরুর পূর্বে এক গ্লাস পানি পান করে তারপর খেতে বসবেন।

. ৫০-৭০ গ্রাম চালের ভাত।

. মাছ বা মুরগি (মাছ হলে বেশি ভালো অথবা চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস) এক টুকরা।

এক বাটি সবজি ও শাক (পছন্দমতো) (ছোট বাটি), চাইলে বাড়তি শাক সবজিও খেতে পারবেন।

সালাদ, লেবু, আচার

এক বাটি ডাল (ঘন পাতলা) (ছোট বাটি)

২৫০ গ্রাম টক দই বা লো ফ্যাট এবং চিনি ছাড়া Yoghurt

খাওয়ার ৪০/৪৫ মিনিট পর কম দুধ/ কম চিনি/ বিনা চিনি দিয়ে বানানো চা/কফি অথবা রং চা/গ্রিন টি বা শুধু কুসুম গরম পানি পান করা ভালো, এতে হজমের গতি বাড়ে।

✅ বিকালঃ

কম দুধ/ কম চিনি/ বিনা চিনি দিয়ে বানানো চা/কফি অথবা রং চা / গ্রিন টি।

১. মুড়ি বা কম মিষ্টি বিস্কুট

২. ছোলা-মুড়ি মাখানো (বাসায় রান্না ছোলা)

৩. চটপটি (বাসায় বানানো)

৪. চিড়া-বাদাম মাখানো

৫. চিনা বাদাম, পেস্তা বাদাম, কাজুবাদাম

৬. বুট ভাঁজা, ডাল ভাজা (তেল ছাড়া এবং বাসায় ভাজা

৭. সবজি নুডুলস বা ম্যাকারনি এক বাটি নুডুলস বা ম্যাকারনির পরিমান কম ও তেল খুব কম, কিন্তু সবজি বেশি)

তবে উপরের সব খাবারগুলো যে একসাথে খেতে হবে তা নয়, উপরের খাবার উপাদানগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি ভাগ খেতে হবে।

এক বাটি সবজি ও শাক (পছন্দমতো) (ছোট বাটি), চাইলে বাড়তি শাক সবজিও খেতে পারবেন।

সালাদ, লেবু, আচার

. এক বাটি ডাল (ঘন / পাতলা) (ছোট বাটি)

২৫০ গ্রাম টক দই বা লো ফ্যাট এবং চিনি ছাড়া Yoghurt

খাওয়ার ৪০/৪৫ মিনিট পর কম দুধ/ কম চিনি/ বিনা চিনি দিয়ে বানানো চা/কফি অথবা রং চা/গ্রিন টি বা শুধু কুসুম গরম পানি পান করা ভালো, এতে হজমের গতি বাড়ে।

✅ রাত:

রাতের খাবার খাওয়ার আগে ১ গ্লাস পানি পান করে খেতে যাবেন।

আটার পাতলা রুটি দুটা। কেউ চাইলে ছোট বাটির এক বাটি ভাত খেতে পারেন। তবে আমি বলবো যে, রাতে যত হালকা খাওয়া যায় ততই মঙ্গলজনক। রাতে অল্প খেতে প্রথম প্রথম কষ্ট হবে। তবে অভ্যাস
তবে উপরের সব খাবারগুলো যে একসাথে খেতে হবে তা নয়, উপরের খাবার উপাদানগুলোর যেকোনো একটি ভাগ খেতে হবে।
রাতের খাবার খাওয়ার আগে ১ গ্লাস পানি পান করে খেতে যাবেন।

আটার পাতলা রুটি দুটা। কেউ চাইলে ছোট বাটির এক বাটি ভাত খেতে পারেন। তবে আমি বলবো যে, রাতে যত হালকা খাওয়া যায় ততই মঙ্গলজনক। রাতে অল্প খেতে প্রথম প্রথম কষ্ট হবে। তবে অভ্যাস হয়ে গেলে আপনি নিজেই এর সুফল বুঝতে পারবেন।

• এক বাটি সবজি (ছোট বাটি)

এক বাটি ডাল (ছোট বাটি)

সালাদ (টকদই দিয়ে ছোট এক বাটি সালাদ, লেবু

তবে উপরের সব খাবারগুলো যে একসাথে খেতে হবে তা নয়, উপরের খাবার উপাদান গুলোর মধ্যে যেগুলো আপনি খেতে চান সেগুলোই খাবেন।

চেষ্টা করবেন রাতের খাবার যেন অবশ্যই ঘুমানোর দুই/আড়াই ঘণ্টা আগে শেষ হয়। রাতে চা/কফি পান করার দরকার নেই। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘঠতে পারে। সেক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারে।

সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

Upgrade to Pro
Choose the Plan That's Right for You
Read More
Otvut https://otvut.com