দুর্গাপূজা - বাংলা প্রবন্ধ রচনা

সূচনা : হিন্দু সম্প্রদায়ের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ পূজা হিন্দুরা ধর্মীয় আচার ও নিয়ম মাফিক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করে থাকে। ধনী গরিব নির্বিশেষে হিন্দু নর-নারী, শিশু-বৃদ্ধ সবাই নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে দেবীকে দেখার জন্য মন্দিরে-মন্দিরে গমন করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে সকলে। বাংলার প্রতিটি হিন্দু প্রধান এলাকায় দেখা দেয় আনন্দের কোলাহল। পত্র-পত্রিকাগুলো বের করে বিশেষ সংখ্যা। মন্দিরে-মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর ঢেউ উপচে পড়ে রেডিও-টেলিভিশনে। প্রকৃতি দেবী এ রমণীয় মূর্তি ধারণ করেন। দুর্গা মূলত শক্তির দেবী।
 
ইতিহাস : এ পূজার একটি ছোটখাট ইতিহাস রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, খুব প্রাচীনকালে অযোধ্যায় রামচন্দ্র লঙ্কারাজ রাবণকে বধ করার জন্য শরৎকালে অকালবোধন করে দুর্গাদেবীর বন্দনা করেছিলেন। তাই এটি শারদীয়া দুর্গোৎসব নামে বিশেষভাবে খ্যাত। আবার মহারাজ সুরথ একদা রাজ্য ফিরে পাওয়ার জন্য বসন্ত কালে দুর্গাপূজা করেন। তাই দুর্গোৎসবই আবার বাসন্তী পূজা নামে খ্যাত। অবশ্য আমাদের দেশে এবং অন্যান্য যে সব দেশে হিন্দু সম্প্রদায় বাস করেন, তারা সবাই বেশির ভাগ শারদীয় উৎসবই পালন করে থাকেন। বাসন্তী পূজার প্রচলন খুব একটা নেই।
 
প্রতিমা বর্ণনা : দেবী সিংহ বাহনা দশভুজা। দেবীর দশ হাতে দশটি অস্ত্র থাকে। মহিষাসুর পদতলে অস্ত্রবিদ্ধ। দেবীর দক্ষিণে লক্ষ্মী এবং সিদ্ধির দেবতা গণেশ। বীণাপাণি সরস্বতী এবং সেনাপতি কার্তিক বামে। গণেশের পাশে কলাবউ মৃত্তিকা। যুদ্ধ সাজে সজ্জিতা দুর্গাদেবী সিংহ ও সাপ দ্বারা বেষ্টিত মহিষাসুর বধে উদ্যতা। দুর্গাদেবীর দশ হাতের দশ অস্ত্র দ্বারা আক্রান্ত অসুরকে তখন ভয়ংকর দেখায়। সিংহ দুর্গাদেবীর বাহন। ইঁদুর ও ময়ূর যথাক্রমে গণেশ ও কার্তিকের বাহন।
 
পূজার বিবরণ : দুর্গাপূজা পাঁচ দিন ধরে চলে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী তিথিতে দেবীর আরাধনা করা হয়। শরতের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজা আরম্ভ হয়। তবে সপ্তমী থেকেই মূল উৎসব শুরু হয়। মাঙ্গলিক শংক নিনাদ, কুলবধূদের উলুধ্বনি, ঢাক, কাঁসর ও ঘণ্টার ঐক্যতানের মধ্যে পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণে শুরু হয় দেবীর পূজা। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পর্যন্ত মহাসমারোহে পূজা চলতে থাকে। ভোর বেলা থেকে পুরোহিতের মন্ত্রে উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে আরম্ভ, দ্বিপ্রহরে প্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যা থেকে রাত্রি পর্যন্ত চলে দেবীর আরতি। তিন দিন মহাসমারোহে পূজা শেষে চতুর্থ দিনে হয় দশমী। এ দিন প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এ দিনটি ‘বিজয়া দশমী’ বলে অভিহিত। প্রতিমা বিসর্জন শেষে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন পরস্পর পরস্পরের সাথে প্রণাম, নমস্কার, শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করে থাকে। এদিনটি সৌহার্দ স্থাপনের দিন। সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের মঙ্গল কামনা করে থাকে।
 
পূজার উপকরণ : দুর্গা পূজায় চাউল, দুর্বা, ফুল, চন্দন, ফল-মূল প্রভৃতি উপকরণ লাগে। পুরোহিত বা ব্রাহ্মণ এসব উপকরণ দিয়ে দেবীর পূজা করেন।

উপসংহার : দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তারা কর্ম ক্লান্ত ও ম্রিয়মাণ প্রাণকে এ উৎসবে সতেজ এবং উৎফুল্ল করে। অতীতে বিষাদ ভুলে গিয়ে সম্প্রীতির ভাব বিনিময় করে।
Like
1
Atualize para o Pro
Escolha o Plano que é melhor para você
Leia Mais
Otvut https://otvut.com