দ্বন্দ্ব সমাস - বাংলা ব্যাকরণ
দ্বন্দ্ব সমাস
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়। যথাঃ—
১. মিলনার্থক শব্দযোগে : মা–বাপ, মাসি–পিসি, জ্বিন–পরি, চা–বিস্কুট ইত্যাদি।
২. বিরোধতার্থক শব্দযোগে : দা–কুমড়ো, অহি–নকুল, স্বর্গ–নরক ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়–ব্যয়, জমা–খরচ, ছোট–বড়, ছেলে–বুড়ো, লাভ–লোকসান ইত্যাদি।
৪. অঙ্গবাচক শব্দযোগে : হাত–পা, নাক–কান, বুক–পিঠ, মাথা–মুন্ডু, নাক–মুখ ইত্যাদি।
৫. সংখ্যাবাচক শব্দযোগে : সাত–পাঁচ, নয়–ছয়, সাত–সতের, উনিশ–বিশ ইত্যাদি।
৬. সমার্থক শব্দযোগে : হাট–বাজার, ঘর–দুয়ার, কল–কারখানা, মোল্লা–মৌলভী, খাতা–পত্র, জন–মানব, কাজ–কর্ম, লজ্জা–শরম, নাম–ডাক ইত্যাদি।
৭. প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে : কাপড়–চোপড়, পোকা–মাকড়, দয়া–মায়া, ধূতি–চাদর ইত্যাদি।
৮. দুটি সর্বনামযোগে : যা–তা, যথা–তথা, তুমি–আমি, এখানে–সেখানে ইত্যাদি।
৯. দুটি ক্রিয়াযোগে : দেখা–শোনা, যাওয়া–আসা, চলা–ফেরা, দেওয়া–থোওয়া ইত্যাদি।
১০. দুটি ক্রিয়া বিশেষণযোগে : ধীরে–সুস্থে, আগে–পাছে, আকারে–ইঙ্গিতে ইত্যাদি।
১১. দুটি বিশেষণযোগে : ভালো–মন্দ, কম–বেশি, আসল–নকল, বাকি–বকেয়া ইত্যাদি।
১২. খাঁটি বাংলা শব্দযোগে : সোনা–রূপা, রাত–দিন ইত্যাদি।
অলুক দ্বন্দ্ব
একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস:
এখানে নরাঃ বা নরৌ একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস। বাংলায় 'আমরা' কে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। (সে তুমি আমি = আমরা)। অবশ্য অনেকে 'আমরা'কে নিত্য সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করে।
তিন বা বহু পদে দ্বন্দ্ব সমাস হলে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন:—